উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে-৫৮২ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল জানান, ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে দুবাইয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় ২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। পাঁচ দিনের সফরে তিনি ইউএনজিএর সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—“Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”।
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক সংকট, টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে চার দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি অনুষ্ঠান, সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি, ভুটান ও থাইল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুইডেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন।
নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থও গুরুত্ব পায়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত একটি নাশতা বৈঠকেও অংশ নেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
সফরকালে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সংকটটির সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচির মধ্যেও জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো বিষয় ছিল। ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও নিউইয়র্ক সফরকালে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি মোট আটটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান।
নারীর ক্ষমতায়ন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এসব কর্মসূচিতে তিনি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
নিউইয়র্কে ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। প্রথমে তিনি দুবাই পৌঁছান এবং সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর রোববার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
রোববার সকালে তাঁর বহনকারী ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো।
এই সফরে ইউএনজিএর সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান।