উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ওঠার পর সোমবার (১১ অক্টোবর) সোনার দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং দেশটির মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৬ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে সোনার দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত সোনার ফিউচার মূল্যও ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ডলারের দাম সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
ইভানজেলিস্তা বলেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে ফেডের সুদের হার আরো বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ও ডলারের দাম বাড়তে পারে, যা সোনার দামের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমতে পারে এবং সোনার দাম কিছুটা সমর্থন পেতে পারে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন ৮৫ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনার পরিবর্তে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়—এমন সম্পদে বিনিয়োগে আগ্রহী হন। কারণ, সোনা ধরে রাখলে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না।
সোমবার বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬০ ডলার ৬২ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৬৮৪ ডলার ৭১ সেন্ট। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৪৯ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।
এদিকে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।