উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঘাটসংলগ্ন এলাকায় চর জেগে ওঠায় ট্রলার চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটক ও যাত্রীরা। একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা ঘাটটি এখন অনেকটাই পর্যটকশূন্য। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত চর কেটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সকালে সরেজমিনে লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে বড় একটি চর জেগে উঠেছে। এতে চর ও ঘাটের মাঝখানে একটি খালের মতো অংশ তৈরি হয়েছে, যেখানে পানির পরিমাণ খুবই কম। নদী থেকে ঘাটে যাতায়াতের জন্য ট্রলারগুলোকে ছোট একটি চ্যানেল দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলার চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। চ্যানেলটি এতটাই সংকীর্ণ যে দুটি ট্রলার একসঙ্গে চলাচল করতে পারছে না।
এ ছাড়া ঘাটে পর্যটক ও যাত্রীদের ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কাদামাটির মধ্যে নামতে হচ্ছে তাঁদের। এতে অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন। নাব্যতা সংকট ও এমন ভোগান্তির কারণে পর্যটকেরা শিমুলিয়া ঘাটে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে পর্যটকনির্ভর এ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘাটসংলগ্ন জেগে ওঠা চরটি কেটে দিলে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়বে। প্রাণ ফিরে পাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য।
শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার কাউসার শেখ বলেন, এ ঘাটকে কেন্দ্র করে প্রায় ৯০০ ট্রলারচালক ও শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘাটসংলগ্ন চরটি কেটে নাব্যতা সংকট দূর করা না হলে তাঁদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। অনেকেরই আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অপর ইজারাদার হামিদুর রহমান বলেন, এখানে দেশীয় ও পর্যটক—দুটি ঘাট রয়েছে। ঘাট দুটির ইজারা অর্ধকোটি টাকারও বেশি। কিন্তু চর জেগে ওঠায় ঘাট দুটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটকেরা মূলত ট্রলারে পদ্মা নদী ঘুরে দেখা এবং পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসেন। কিন্তু ট্রলার চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় পর্যটকদের উপস্থিতি কমেছে। এতে তাঁদের ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমেছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত ঘাটসংলগ্ন চর কেটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না হলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে শিমুলিয়া ঘাটের অবশিষ্ট আকর্ষণও হারিয়ে যেতে পারে।
শিমুলিয়া নদীবন্দরের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ খান বলেন, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে চর জেগে ওঠায় ঘাট ও চরের মাঝখানে একটি খালের মতো অংশ তৈরি হয়েছে। পানির স্বল্পতার কারণে নদী থেকে ওই অংশে পর্যটকবাহী ট্রলার চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে পর্যটকেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) শিগগিরই চরটি কেটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসী সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিমুলিয়া ঘাটের নাব্যতা সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্রলারচালক, শ্রমিক ও পর্যটকদের। তাঁদের মতে, চর অপসারণ করে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা গেলে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেতে পারে ঐতিহ্যবাহী এ ঘাট।