উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। কর্মসংস্থান হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে উপজেলার অন্তত ১২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাড়িভাড়া, দোকানপাট, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পরিবহন খাতে। অন্যদিকে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে চালু থাকা অনেক শিল্পকারখানাও উৎপাদন সংকটে পড়েছে। এতে নতুন করে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস এ শিল্পাঞ্চলে। একসময় কয়েক লাখ শ্রমিক পোশাক, বস্ত্র, স্পিনিং, ডাইংসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত ছিলেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল হাজার হাজার দোকানপাট, আবাসিক ভবন, পরিবহন ব্যবসা ও ছোট-বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই কর্মচাঞ্চল্য এখন অনেকটাই ম্লান।
একসময় সকাল হলেই কারখানার সাইরেনের শব্দে মুখর হয়ে উঠত রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চল। শ্রমিকদের পদচারণায় ব্যস্ত থাকত সড়ক-মহাসড়ক। কারখানার আশপাশের হোটেল, রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান ও বাজারগুলোতে চলত জমজমাট বেচাকেনা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রমিকদের আনাগোনায় প্রাণবন্ত থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু বর্তমানে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। কোথাও উৎপাদন বন্ধ, কোথাও সীমিত পরিসরে চলছে কার্যক্রম। ফলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে গাজী টায়ার, ডিজনি সোয়েটার, বি ব্রাদার্স, মারকুয়েন্টাল, মাহাবুব স্পিনিং, জয়া গার্মেন্টস, সজীব গার্মেন্টস, নোয়াব স্পিনিং, অন্তিম নিটিং অ্যান্ড ডাইং এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্টসহ অন্তত ১২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। হঠাৎ কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেকেই নতুন চাকরির সন্ধানে বিভিন্ন কারখানায় ঘুরছেন। কেউ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন, কেউ পরিচিতজনদের মাধ্যমে কাজ খুঁজছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের অনেকেই এখন পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। কেউ দিনমজুরি করছেন, কেউ অস্থায়ী কাজের মাধ্যমে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই কোনো কাজ না পেয়ে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
কর্মসংস্থান হারিয়ে দিশাহারা শ্রমিকেরা :
গার্মেন্টস শ্রমিক ইদ্রিস আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পকারখানা গুলোতে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক শ্রমিক নতুন চাকরির সন্ধানে এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় ঘুরছেন। নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় পরিবার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।
বেকার শ্রমিক রহিমের বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই সংকট। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁর ভাষ্য। নতুন চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেও আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
শ্রমিকদের দাবি, বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে বেকার রয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। অন্যথায় অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন।
ভাড়াটিয়া সংকটে বিপাকে বাড়ির মালিকেরা :
শিল্পকারখানা বন্ধের প্রভাব শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় আবাসন খাতে। একসময় শ্রমিকদের বাসস্থানের চাহিদা পূরণ করতে অনেক জমির মালিক নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছিলেন। কারখানার আশপাশে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য ভাড়াবাড়ি ও শ্রমিক আবাসন।
কিন্তু কর্মসংস্থান হারিয়ে শ্রমিকদের একটি অংশ অন্যত্র চলে যাওয়ায় অনেক বাড়িতে ভাড়াটিয়া সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও একাধিক কক্ষ খালি পড়ে আছে, আবার কোথাও আগের তুলনায় কম ভাড়ায় ঘর দিতে হচ্ছে। এতে বাড়ির মালিকদের নিয়মিত আয় কমে গেছে। অন্যদিকে, ব্যাংকঋণের কিস্তি ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।
স্থানীয় বাড়ির মালিক জব্বারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পকারখানা সচল থাকার সময় শ্রমিকদের আবাসনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। সেই চাহিদার কথা বিবেচনা করেই অনেকে বাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আগের মতো ভাড়াটিয়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাড়িভাড়ার আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে।
স্থানীয় বাড়ির মালিকদের দাবি, শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে শ্রমিকদের বসবাস বাড়বে। এতে খালি পড়ে থাকা ভাড়ার ঘরগুলো আবার পূর্ণ হবে এবং আবাসন খাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।
ক্রেতার অভাবে মন্দা দোকানপাটে :
শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ছোট-বড় দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কারখানার শ্রমিকদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। আগে যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে এখন অনেক দোকানেই ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে।
স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ী আক্কাস আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার শ্রমিকরাই ছিলেন এলাকার দোকানপাটের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়া এবং অনেকে বেকার হয়ে পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্যান্য কেনাকাটা অনেকটাই কমেছে। এতে দোকানের বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেকেই ব্যাংক কিংবা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে দোকান সাজিয়েছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় এখন ঋণের কিস্তি, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যায় পড়ছেন। ব্যবসায় মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু দোকানপাট নয়, শিল্পকারখানা বন্ধের কারণে স্থানীয় পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন। তাঁদের পরিবহনের জন্য অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু শ্রমিকদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় অনেক পরিবহনচালকের আয় কমেছে। এতে পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোও আর্থিক চাপে পড়েছে।
কর্মসংস্থানের সংকটে সামাজিক সমস্যার শঙ্কা:
স্থানীয় বাসিন্দা বরকত আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে বাজার, পরিবহন, বাড়িভাড়াসহ প্রায় সব খাতে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত :
এদিকে, চালু থাকা শিল্পকারখানাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ত সরবরাহ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ওয়ান পোলার লিমিটেড গার্মেন্টসের সিনিয়র ম্যানেজার (এইচআর) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় তাঁদের প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাস ও ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ফলে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গার্মেন্টসশিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমানো সম্ভব হবে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতি বাড়ে। এতে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ এবং কারখানার অন্যান্য ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।
রপ্তানিমুখী শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে :
ভূঁইয়া ফেব্রিক্সের চেয়ারম্যান মোস্তফা মনোয়ার শাওন ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানিমুখী শিল্পের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে এ খাত আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে পণ্যের মানোন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তাঁর মতে, শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে রপ্তানিমুখী শিল্প আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরে আসতে পারবে।
বন্ধ কারখানা চালু করতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রশাসনের :
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক জানান, আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু গার্মেন্টস কারখানা পুনরায় চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিকদের সংগঠনকে বিষয়টি অবহিত করে স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধার মাধ্যমে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এতে শিল্প খাত সচল হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের দাবি, শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সরকারকে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু, শিল্পমালিকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নতুন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তাঁদের মতে, রূপগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় সচল হলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া, দোকানপাট, পরিবহনসহ স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে। শিল্প খাতের সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার, শিল্পমালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
একসময় শিল্পকারখানার কর্মচাঞ্চল্যে মুখর রূপগঞ্জের অনেক এলাকায় এখন অনিশ্চয়তার ছাপ। বন্ধ কারখানার ফটকের সামনে নতুন করে কাজ পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন বেকার শ্রমিকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও সচল হবে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ফিরে আসবে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
শিল্পকারখানা বাঁচলে বাঁচবে শ্রমিক, সচল থাকবে স্থানীয় অর্থনীতি। তাই বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন রূপগঞ্জের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ।