আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী


বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থান নয় বরং সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত। টেকসই আবাসনের অর্থ সাধারণত নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহণ ও উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ পরিবেশ।

তিনি বলেন, সব নাগরিকের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে ততটা সহজ নয়। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।


তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভার পপুলেটেড। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এসব বিষয় বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। 

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে বলে জানান তিনি। 

শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাকে সরকার একটি কার্যকর বিকল্প মনে করে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। 


তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী এবং কতিপয় বড় শহরের কেন্দ্রীভূত উন্নয়নের বাইরে এসে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয় বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। 

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের নানা রকম চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা—উভয়েরই মুখোমুখি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায়, বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ দ্রুততার সঙ্গে, স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। 

দেশের নগর বা শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সঙ্গত কারণেই কিছুটা কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সক্ষম হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’—এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে।’

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ভিটেমাটি হারিয়ে ৮০ বছরের শিক্ষক উদ্বাস্তু

ভিটেমাটি হারিয়ে ৮০ বছরের শিক্ষক উদ্বাস্তু

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী ভাতা, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি আব্দুস সালাম আজাদকে আনিসুর রহমানের কৃতজ্ঞতা

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী ভাতা, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি আব্দুস সালাম আজাদকে আনিসুর রহমানের কৃতজ্ঞতা

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, খতিয়ে দেখবেন তথ্য উপদেষ্টা

সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, খতিয়ে দেখবেন তথ্য উপদেষ্টা

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

অবৈধ দখল বন্ধে  দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক আবাসন কোম্পানিকে ৯ দফা দাবি পেশ।

অবৈধ দখল বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক আবাসন কোম্পানিকে ৯ দফা দাবি পেশ।

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেফতার

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেফতার

লগি বৈঠার হামলায় নিহতদের বিচার চেয়ে রূপগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

লগি বৈঠার হামলায় নিহতদের বিচার চেয়ে রূপগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

রূপগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মহাসড়ক পরিষ্কার ও আলপনা আঁকা

রূপগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মহাসড়ক পরিষ্কার ও আলপনা আঁকা

রূপগঞ্জে রাতভর মহাসড়ক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ছাত্রদল নেতার সঙ্গে ৫০ কর্মী

রূপগঞ্জে রাতভর মহাসড়ক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ছাত্রদল নেতার সঙ্গে ৫০ কর্মী

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নিভছে শিল্পের আলো, বেকার হাজারো শ্রমিক, বিপর্যস্ত স্থানীয় অর্থনীতি

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নিভছে শিল্পের আলো, বেকার হাজারো শ্রমিক, বিপর্যস্ত স্থানীয় অর্থনীতি

৬৩০ কোটি ডলার জাপানি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

৬৩০ কোটি ডলার জাপানি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

রূপগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রূপগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রূপগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও আখের খেত ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

রূপগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও আখের খেত ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা, পুরস্কৃত হলেন ১২ পুলিশ সদস্য

নারায়ণগঞ্জে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা, পুরস্কৃত হলেন ১২ পুলিশ সদস্য

রূপগঞ্জে রোগীদের টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারীকে কারাদণ্ড

রূপগঞ্জে রোগীদের টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারীকে কারাদণ্ড

সাদা কাগজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থান নয় বরং সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত। টেকসই আবাসনের অর্থ সাধারণত নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহণ ও উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ পরিবেশ।

তিনি বলেন, সব নাগরিকের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে ততটা সহজ নয়। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।


তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভার পপুলেটেড। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এসব বিষয় বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। 

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে বলে জানান তিনি। 

শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাকে সরকার একটি কার্যকর বিকল্প মনে করে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। 


তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী এবং কতিপয় বড় শহরের কেন্দ্রীভূত উন্নয়নের বাইরে এসে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয় বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। 

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের নানা রকম চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা—উভয়েরই মুখোমুখি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায়, বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ দ্রুততার সঙ্গে, স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। 

দেশের নগর বা শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সঙ্গত কারণেই কিছুটা কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সক্ষম হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’—এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে।’


সাদা কাগজ

প্রকাশক ও সম্পাদক :
এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ
নির্বাহী সম্পাদক :
মোঃ আল আমিন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :
মো: ইকবাল হোসেন
সাব এডিটর :
ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ হোসেন রাজ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
0:00 / 0:00
1x