আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

(দুদক) পদ্মা রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার অডিট আপত্তি,কম কাজ, বেশি বিল থেকে চুক্তির বাইরে ব্যয়—২০ আপত্তিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; দুদকে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ


বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ এএম

(দুদক) পদ্মা রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার অডিট আপত্তি,কম কাজ, বেশি বিল থেকে চুক্তির বাইরে ব্যয়—২০ আপত্তিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; দুদকে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ

দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায়। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর পরও চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ব্যয়, কাজের তুলনায় বেশি বিল পরিশোধ, নিম্নমান বা কম কাজের বিপরীতে অর্থ ছাড় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপকরণ আমদানিসহ একাধিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।

এই অডিট আপত্তিগুলো ঘিরে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ও বর্তমান রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের দাবি উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে সাংবাদিক আকাশ খান দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি নিরীক্ষায় এত বড় অঙ্কের আর্থিক আপত্তি ওঠার পরও আফজাল হোসেনকে রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অডিট আপত্তি চূড়ান্তভাবে দুর্নীতি বা অপরাধের প্রমাণ নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

২০ আপত্তিতে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা

সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ২০টি অডিট আপত্তিতে মোট ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে নকশা পরিবর্তনের পরও অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উপকরণ আমদানি, প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দামে চুক্তি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং কাজের তুলনায় বেশি বিল দেওয়ার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আপত্তিগুলোর একটি ঢাকা-যশোর রেললাইন নির্মাণকে ঘিরে। অডিটের তথ্য অনুযায়ী, মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১ দশমিক ৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ কম করা হলেও ঠিকাদারকে শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারি ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৬ সালে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে প্রকল্পটির ইপিসি চুক্তি হয়। চুক্তিতে রেললাইনের বাঁধ নির্মাণের গড় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ মিটার। পরে সর্বশেষ জরিপে তা কমিয়ে ৫ দশমিক ৬ মিটার নির্ধারণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানায়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত নকশা অনুযায়ী কাজ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিরীক্ষার ভাষ্য, নকশা পরিবর্তনের কারণে মাটি ভরাট, পিভিডি, জিওটেক্সটাইল, সিমেন্ট মিক্সিং পাইল, ব্রিজ ও কালভার্টসহ বিভিন্ন কাজের পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু কাজ কমলেও বিল অব কোয়ান্টিটিজে (বিওকিউ) উল্লেখিত শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

অডিটের হিসাবে, এ ক্ষেত্রে ঠিকাদারকে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা, অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলেছে, ঠিকাদারকে চুক্তি অনুযায়ী ডলারে বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কোনো ডলার দেওয়া হয়নি। বর্তমান ডলার বিনিময় হার ব্যবহার করে অডিট অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়েছে, যা তাদের মতে সঠিক নয়।

তবে এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, বিওকিউতে দর নির্ধারণ করা হয়েছিল বাংলাদেশি টাকায় এবং পরবর্তী সময়ে মূল্য সমন্বয়ও করা হয়েছে। ফলে বর্তমান ডলার বিনিময় হার প্রয়োগ করাই যৌক্তিক।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির জিসিসি ২.৫ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ পরবর্তী বিল থেকে সমন্বয়ের সুযোগ থাকলেও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তা করেনি। বরং সংশোধিত নকশায় কাজ কমে যাওয়ার পরও পুরো বিল পরিশোধের মাধ্যমে ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অডিটে মন্তব্য করা হয়েছে।

এ কারণে অতিরিক্ত অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত রেল আমদানিতেও আপত্তি

অডিটের আরেকটি আপত্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ২ হাজার ৮৫৫ টন ইউআইসি-৬০ রেল আমদানি করা হয়। এতে অতিরিক্ত শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাবদ ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, কাজের পরিধি বাড়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-গেন্ডারিয়া তৃতীয় লাইন, ভাঙ্গা জংশন, রূপদিয়া, সিঙ্গিয়া ও পদ্মবিলা জংশনসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত রেলের প্রয়োজন হয়েছিল। তবে এ ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি অডিট কর্তৃপক্ষ।

একের পর এক ব্যয়ের প্রশ্ন

অডিট প্রতিবেদনে আরও যেসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—

১. মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিলিমিটার কম গ্রানুলার স্যান্ড ব্যবহার করেও ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা পরিশোধ।

২. টার্নকি (ইপিসি) চুক্তির শর্ত ভেঙে বিওকিউ বাড়িয়ে ৭২৮ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়।

৩. দেশীয় মালামালের মূল্য বাংলাদেশি টাকার পরিবর্তে ডলারে পরিশোধ করে ৫১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ।

৪. প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত কাজ’ দেখিয়ে প্রাক্কলনের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি দামে চুক্তি, এতে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ।

৫. পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি প্রতিবেদনের তুলনায় বেশি কাজ দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল।

৬. একই জমির মূল্য দ্বিতীয়বার নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অনুদান দেওয়ায় ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

৭. ভাঙ্গা রেলস্টেশনের নকশা পরিবর্তনে ২৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

৮. অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া গাড়ি কেনায় ১১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

৯. ব্যালাস্টের পুরুত্ব কম দিয়েও ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ।

১০. উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া জমির সীমানা পিলার স্থাপনে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

১২. চুক্তির বাইরে ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কেনায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

১৩. সরকারি জমির মূল্য ব্যক্তির নামে পরিশোধ দেখিয়ে ১১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

১৪. অতিরিক্ত অর্থ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দিয়ে এফডিআরে রাখায় ৪১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

১৫. ভাঙ্গা জংশনে অতিরিক্ত মাটি ভরাট দেখিয়ে ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

১৬. প্রভিশনাল সামের ওপর ওভারহেড চার্জ দিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় এবং অতিরিক্ত স্থাপনা নির্মাণে পরামর্শককে অনিয়মিত অর্থ পরিশোধের অভিযোগ।

অডিটের আপত্তি, কর্তৃপক্ষের জবাব—মেলেনি সমাধান

১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যাগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেছে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ।

অডিট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম কাজ কিংবা চুক্তির বাইরে ব্যয়ের পরও ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায়, সরকারি কোষাগারে জমা এবং দায়ী ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

ডিজির বিরুদ্ধে আরও ৬৫৮ কোটি টাকার অভিযোগ

পদ্মা রেল প্রকল্পের অডিট আপত্তির পাশাপাশি রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ কেনায় ৬৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগের পর রেল মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব খালেদা আখতারের স্বাক্ষরিত চিঠি গত ২ জুলাই সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। এতে ৬ জুলাই প্রমাণপত্রসহ শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল।

তবে তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানেও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ

এদিকে দুদকের চলমান অনুসন্ধানে আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে পাথর সরবরাহ ও মোটর মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগের কথাও এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, এসব অর্থের একটি অংশ অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে তার সন্তানদের নামে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের আর্থিক লেনদেন যাচাই করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহযোগিতা চেয়েছে দুদক।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও যাচাই প্রক্রিয়া চলমান।

টিআইবির বক্তব্য: স্বাধীন তদন্ত জরুরি

পদ্মা সেতু রেল সংযোগের মতো বৃহৎ প্রকল্পে এত বড় অঙ্কের অডিট আপত্তির বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, অভিযোগগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। তদন্তে মন্ত্রণালয়, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, এত বড় অভিযোগের পর তদন্তের স্বার্থে রেলের ডিজিকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারত। কিন্তু তা না করে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনা জবাবদিহির ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

‘অডিট আপত্তি উঠলেই অনিয়ম নয়’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে প্রশ্ন আকারে খুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি জানান, অডিটের অধিকাংশ আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অনেক আপত্তি প্রত্যাহারও করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া বলেন, ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ একে একে জবাব দিচ্ছে। তার ভাষ্য, অডিট আপত্তি উঠলেই সেটিকে অনিয়ম বলা যায় না। অডিটে উত্থাপিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে।

‘প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা’

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রেলের মহাপরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয়গুলো সরকার নজরে রেখেছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় উত্থাপিত ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার ২০টি আপত্তির কতটুকু বাস্তবে নিষ্পত্তি হয়েছে, কত টাকা আদায় হয়েছে এবং এসব ঘটনায় কার দায় কতটুকু—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব কবে প্রকাশ হবে?

কারণ, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি শুধু কাগজে আটকে থাকলে প্রকল্পের ব্যয়, জবাবদিহি ও সরকারি অর্থের সুরক্ষা—তিনটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে। আর যদি অভিযোগগুলোর কোনো অংশ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সেটিও জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ভিটেমাটি হারিয়ে ৮০ বছরের শিক্ষক উদ্বাস্তু

ভিটেমাটি হারিয়ে ৮০ বছরের শিক্ষক উদ্বাস্তু

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী ভাতা, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি আব্দুস সালাম আজাদকে আনিসুর রহমানের কৃতজ্ঞতা

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী ভাতা, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি আব্দুস সালাম আজাদকে আনিসুর রহমানের কৃতজ্ঞতা

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, খতিয়ে দেখবেন তথ্য উপদেষ্টা

সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, খতিয়ে দেখবেন তথ্য উপদেষ্টা

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

অবৈধ দখল বন্ধে  দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক আবাসন কোম্পানিকে ৯ দফা দাবি পেশ।

অবৈধ দখল বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক আবাসন কোম্পানিকে ৯ দফা দাবি পেশ।

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেফতার

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেফতার

লগি বৈঠার হামলায় নিহতদের বিচার চেয়ে রূপগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

লগি বৈঠার হামলায় নিহতদের বিচার চেয়ে রূপগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

রূপগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মহাসড়ক পরিষ্কার ও আলপনা আঁকা

রূপগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মহাসড়ক পরিষ্কার ও আলপনা আঁকা

রূপগঞ্জে রাতভর মহাসড়ক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ছাত্রদল নেতার সঙ্গে ৫০ কর্মী

রূপগঞ্জে রাতভর মহাসড়ক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ছাত্রদল নেতার সঙ্গে ৫০ কর্মী

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নিভছে শিল্পের আলো, বেকার হাজারো শ্রমিক, বিপর্যস্ত স্থানীয় অর্থনীতি

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নিভছে শিল্পের আলো, বেকার হাজারো শ্রমিক, বিপর্যস্ত স্থানীয় অর্থনীতি

৬৩০ কোটি ডলার জাপানি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

৬৩০ কোটি ডলার জাপানি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

রূপগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রূপগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রূপগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও আখের খেত ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

রূপগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও আখের খেত ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা, পুরস্কৃত হলেন ১২ পুলিশ সদস্য

নারায়ণগঞ্জে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা, পুরস্কৃত হলেন ১২ পুলিশ সদস্য

রূপগঞ্জে রোগীদের টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারীকে কারাদণ্ড

রূপগঞ্জে রোগীদের টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারীকে কারাদণ্ড

সাদা কাগজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


(দুদক) পদ্মা রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার অডিট আপত্তি,কম কাজ, বেশি বিল থেকে চুক্তির বাইরে ব্যয়—২০ আপত্তিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; দুদকে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায়। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর পরও চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ব্যয়, কাজের তুলনায় বেশি বিল পরিশোধ, নিম্নমান বা কম কাজের বিপরীতে অর্থ ছাড় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপকরণ আমদানিসহ একাধিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।

এই অডিট আপত্তিগুলো ঘিরে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ও বর্তমান রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের দাবি উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে সাংবাদিক আকাশ খান দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি নিরীক্ষায় এত বড় অঙ্কের আর্থিক আপত্তি ওঠার পরও আফজাল হোসেনকে রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অডিট আপত্তি চূড়ান্তভাবে দুর্নীতি বা অপরাধের প্রমাণ নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

২০ আপত্তিতে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা

সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ২০টি অডিট আপত্তিতে মোট ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে নকশা পরিবর্তনের পরও অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উপকরণ আমদানি, প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দামে চুক্তি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং কাজের তুলনায় বেশি বিল দেওয়ার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আপত্তিগুলোর একটি ঢাকা-যশোর রেললাইন নির্মাণকে ঘিরে। অডিটের তথ্য অনুযায়ী, মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১ দশমিক ৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ কম করা হলেও ঠিকাদারকে শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারি ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৬ সালে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে প্রকল্পটির ইপিসি চুক্তি হয়। চুক্তিতে রেললাইনের বাঁধ নির্মাণের গড় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ মিটার। পরে সর্বশেষ জরিপে তা কমিয়ে ৫ দশমিক ৬ মিটার নির্ধারণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানায়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত নকশা অনুযায়ী কাজ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিরীক্ষার ভাষ্য, নকশা পরিবর্তনের কারণে মাটি ভরাট, পিভিডি, জিওটেক্সটাইল, সিমেন্ট মিক্সিং পাইল, ব্রিজ ও কালভার্টসহ বিভিন্ন কাজের পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু কাজ কমলেও বিল অব কোয়ান্টিটিজে (বিওকিউ) উল্লেখিত শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

অডিটের হিসাবে, এ ক্ষেত্রে ঠিকাদারকে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা, অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলেছে, ঠিকাদারকে চুক্তি অনুযায়ী ডলারে বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কোনো ডলার দেওয়া হয়নি। বর্তমান ডলার বিনিময় হার ব্যবহার করে অডিট অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়েছে, যা তাদের মতে সঠিক নয়।

তবে এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, বিওকিউতে দর নির্ধারণ করা হয়েছিল বাংলাদেশি টাকায় এবং পরবর্তী সময়ে মূল্য সমন্বয়ও করা হয়েছে। ফলে বর্তমান ডলার বিনিময় হার প্রয়োগ করাই যৌক্তিক।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির জিসিসি ২.৫ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ পরবর্তী বিল থেকে সমন্বয়ের সুযোগ থাকলেও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তা করেনি। বরং সংশোধিত নকশায় কাজ কমে যাওয়ার পরও পুরো বিল পরিশোধের মাধ্যমে ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অডিটে মন্তব্য করা হয়েছে।

এ কারণে অতিরিক্ত অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত রেল আমদানিতেও আপত্তি

অডিটের আরেকটি আপত্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ২ হাজার ৮৫৫ টন ইউআইসি-৬০ রেল আমদানি করা হয়। এতে অতিরিক্ত শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাবদ ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, কাজের পরিধি বাড়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-গেন্ডারিয়া তৃতীয় লাইন, ভাঙ্গা জংশন, রূপদিয়া, সিঙ্গিয়া ও পদ্মবিলা জংশনসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত রেলের প্রয়োজন হয়েছিল। তবে এ ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি অডিট কর্তৃপক্ষ।

একের পর এক ব্যয়ের প্রশ্ন

অডিট প্রতিবেদনে আরও যেসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—

১. মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিলিমিটার কম গ্রানুলার স্যান্ড ব্যবহার করেও ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা পরিশোধ।

২. টার্নকি (ইপিসি) চুক্তির শর্ত ভেঙে বিওকিউ বাড়িয়ে ৭২৮ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়।

৩. দেশীয় মালামালের মূল্য বাংলাদেশি টাকার পরিবর্তে ডলারে পরিশোধ করে ৫১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ।

৪. প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত কাজ’ দেখিয়ে প্রাক্কলনের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি দামে চুক্তি, এতে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ।

৫. পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি প্রতিবেদনের তুলনায় বেশি কাজ দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল।

৬. একই জমির মূল্য দ্বিতীয়বার নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অনুদান দেওয়ায় ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

৭. ভাঙ্গা রেলস্টেশনের নকশা পরিবর্তনে ২৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

৮. অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া গাড়ি কেনায় ১১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

৯. ব্যালাস্টের পুরুত্ব কম দিয়েও ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ।

১০. উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া জমির সীমানা পিলার স্থাপনে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

১২. চুক্তির বাইরে ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কেনায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

১৩. সরকারি জমির মূল্য ব্যক্তির নামে পরিশোধ দেখিয়ে ১১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

১৪. অতিরিক্ত অর্থ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দিয়ে এফডিআরে রাখায় ৪১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

১৫. ভাঙ্গা জংশনে অতিরিক্ত মাটি ভরাট দেখিয়ে ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

১৬. প্রভিশনাল সামের ওপর ওভারহেড চার্জ দিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় এবং অতিরিক্ত স্থাপনা নির্মাণে পরামর্শককে অনিয়মিত অর্থ পরিশোধের অভিযোগ।

অডিটের আপত্তি, কর্তৃপক্ষের জবাব—মেলেনি সমাধান

১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যাগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেছে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ।

অডিট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম কাজ কিংবা চুক্তির বাইরে ব্যয়ের পরও ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায়, সরকারি কোষাগারে জমা এবং দায়ী ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

ডিজির বিরুদ্ধে আরও ৬৫৮ কোটি টাকার অভিযোগ

পদ্মা রেল প্রকল্পের অডিট আপত্তির পাশাপাশি রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ কেনায় ৬৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগের পর রেল মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব খালেদা আখতারের স্বাক্ষরিত চিঠি গত ২ জুলাই সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। এতে ৬ জুলাই প্রমাণপত্রসহ শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল।

তবে তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানেও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ

এদিকে দুদকের চলমান অনুসন্ধানে আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে পাথর সরবরাহ ও মোটর মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগের কথাও এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, এসব অর্থের একটি অংশ অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে তার সন্তানদের নামে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের আর্থিক লেনদেন যাচাই করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহযোগিতা চেয়েছে দুদক।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও যাচাই প্রক্রিয়া চলমান।

টিআইবির বক্তব্য: স্বাধীন তদন্ত জরুরি

পদ্মা সেতু রেল সংযোগের মতো বৃহৎ প্রকল্পে এত বড় অঙ্কের অডিট আপত্তির বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, অভিযোগগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। তদন্তে মন্ত্রণালয়, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, এত বড় অভিযোগের পর তদন্তের স্বার্থে রেলের ডিজিকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারত। কিন্তু তা না করে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনা জবাবদিহির ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

‘অডিট আপত্তি উঠলেই অনিয়ম নয়’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে প্রশ্ন আকারে খুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি জানান, অডিটের অধিকাংশ আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অনেক আপত্তি প্রত্যাহারও করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া বলেন, ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ একে একে জবাব দিচ্ছে। তার ভাষ্য, অডিট আপত্তি উঠলেই সেটিকে অনিয়ম বলা যায় না। অডিটে উত্থাপিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে।

‘প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা’

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রেলের মহাপরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয়গুলো সরকার নজরে রেখেছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় উত্থাপিত ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার ২০টি আপত্তির কতটুকু বাস্তবে নিষ্পত্তি হয়েছে, কত টাকা আদায় হয়েছে এবং এসব ঘটনায় কার দায় কতটুকু—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব কবে প্রকাশ হবে?

কারণ, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি শুধু কাগজে আটকে থাকলে প্রকল্পের ব্যয়, জবাবদিহি ও সরকারি অর্থের সুরক্ষা—তিনটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে। আর যদি অভিযোগগুলোর কোনো অংশ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সেটিও জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।


সাদা কাগজ

প্রকাশক ও সম্পাদক :
এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ
নির্বাহী সম্পাদক :
মোঃ আল আমিন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :
মো: ইকবাল হোসেন
সাব এডিটর :
ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ হোসেন রাজ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
(দুদক) পদ্মা রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার অডিট আপত্তি,কম কাজ, বেশি বিল থেকে চুক্তির বাইরে ব্যয়—২০ আপত্তিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; দুদকে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x