আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

গণপূর্তে লটারি ঘিরে ক্ষোভের আগুন, ‘দুই সারোয়ারের’ কারসাজির অভিযোগ


বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

গণপূর্তে লটারি ঘিরে ক্ষোভের আগুন, ‘দুই সারোয়ারের’ কারসাজির অভিযোগ

বদলি-বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং পদায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নের যে ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা ঘিরেই এখন দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার আড়ালেই প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে এ নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে সম্প্রতি ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীসহ মোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়। বদলি-বাণিজ্যের প্রচলিত অভিযোগ দূর করে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কিন্তু পদায়নের পরপরই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের স্থান পাওয়া, একই কর্মকর্তার পুনরায় সুবিধাজনক পদে ফিরে আসা এবং লটারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, লটারির ফলাফল ও পদায়নের পেছনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল। তাঁদের প্রশ্ন—যে লটারি বদলি-বাণিজ্য বন্ধের হাতিয়ার হওয়ার কথা, সেটিই কি শেষ পর্যন্ত অনিয়ম আড়াল করার মাধ্যম হয়ে উঠেছে?

‘দুই সারোয়ারের’ ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ, কারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন পদায়ন?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে একই নামের দুই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সারোয়ার মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অন্যজন গণপূর্ত অধিদপ্তরে থেকে অফিস গ্রেডিং ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই দুই কর্মকর্তার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কিছু পদায়নে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, অপেক্ষাকৃত দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরে পাঠানো হয়েছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত কয়েকজন কর্মকর্তা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ।

গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন, প্রশ্নের মুখে লটারির নিরপেক্ষতা

পদায়নের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে বিশেষভাবে আলোচনা চলছে। অভিযোগকারীরা এসব ঘটনাকে লটারির স্বচ্ছতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখছেন।

মাসুদ রানার মেডিকেল ডিভিশনে পদায়ন: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিভিশন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। লটারির মাধ্যমে তাঁকে মেডিকেল ডিভিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং এ পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ বিবেচনা ছিল কি না।

আহসান হাবিবের স্টাফ অফিসার পদে নিয়োগ: ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামি এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের দাবি, তাঁকে সরাসরি স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের প্রকৃতি এবং পদায়নের প্রশাসনিক ভিত্তি যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজিবের একই ডিভিশনে পুনরায় পদায়ন: নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবকে ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দুর্নীতির অভিযোগে রাজউক থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ফেরত আসার পর তিনি প্রথমে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ পেয়েছিলেন। পরে লটারির মাধ্যমে তাঁকে আবার ডিভিশন-১-এ পদায়ন করা হয়েছে—যেখানে রাজউকে যাওয়ার আগে তিনি দায়িত্ব পালন করতেন।

একই কর্মকর্তার পূর্বপরিচিত দায়িত্বস্থলে পুনরায় পদায়ন পাওয়ার ঘটনাকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। তবে রাজিবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, পূর্ববর্তী পদায়নের নথি এবং বর্তমান পদায়নের প্রক্রিয়া যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

আন্দালিব রহমানের সিটি ডিভিশনে পদায়ন: শেরেবাংলা-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আন্দালিব রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ সিটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের মতে, এসব পদায়নের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ থাকলেও একাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি একসঙ্গে পর্যালোচনা করা দরকার। বিশেষ করে লটারির ফলাফল, অফিস গ্রেডিং, পদায়নের সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি যাচাই করলে প্রক্রিয়াটির প্রকৃত স্বচ্ছতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তদন্তের দাবি: ব্যাংক হিসাব, গ্রেডিং নথি ও যোগাযোগের তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

লটারির মাধ্যমে পদায়নে বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদগুলোতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের স্থান পাওয়ার ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হোক। প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হিসাবও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। পাশাপাশি লটারির মাধ্যমে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীদের আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পদায়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগের তথ্য, প্রাসঙ্গিক কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), অফিস গ্রেডিংয়ের নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা আইনসম্মতভাবে পর্যালোচনা করা হোক। তবে ব্যাংক হিসাব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা পরিবারের সদস্যদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি অনুমোদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

তাঁদের মতে, কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম চিহ্নিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি, অধিদপ্তরের সারোয়ারের দাবি—‘নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেডিং করেছি’

লটারির পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সারোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে লিখিত খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সারোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পদায়নের সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেননি; মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কেবল অফিস গ্রেডিংয়ের কাজ করেছেন। এই মূল্যায়ন ও গ্রেডিংয়ের কাজে তাঁর সঙ্গে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পদায়ন প্রক্রিয়ায় এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল না। তবে গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, লটারির ফলাফল এবং চূড়ান্ত পদায়নের মধ্যে কোনো অসংগতি ছিল কি না, তা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পেতে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।

স্বচ্ছতার উদ্যোগই কি নতুন বিতর্কের মুখে?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন শুধু কয়েকজন কর্মকর্তার পদ পাওয়া বা না-পাওয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত স্বচ্ছতার উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

লটারির ফলাফল যদি নিরপেক্ষ ও নির্ধারিত নিয়মের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথি ও গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড প্রকাশ করে সন্দেহ দূর করার সুযোগ রয়েছে। আর যদি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার কিংবা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কর্মকর্তাদের একাংশের প্রত্যাশা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেবে। এতে শুধু বিতর্কিত পদায়নের বিষয়টি পরিষ্কার হবে না, ভবিষ্যতে বদলি-বাণিজ্য বন্ধে লটারিভিত্তিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এখন দেখার বিষয়, বদলি-বাণিজ্য বন্ধের লক্ষ্যে নেওয়া লটারির উদ্যোগ ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নেয় এবং পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও সিদ্ধান্তগুলো কতটা প্রকাশ্যে আসে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ভিটেমাটি হারিয়ে ৮০ বছরের শিক্ষক উদ্বাস্তু

ভিটেমাটি হারিয়ে ৮০ বছরের শিক্ষক উদ্বাস্তু

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী ভাতা, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি আব্দুস সালাম আজাদকে আনিসুর রহমানের কৃতজ্ঞতা

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী ভাতা, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি আব্দুস সালাম আজাদকে আনিসুর রহমানের কৃতজ্ঞতা

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, খতিয়ে দেখবেন তথ্য উপদেষ্টা

সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, খতিয়ে দেখবেন তথ্য উপদেষ্টা

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

অবৈধ দখল বন্ধে  দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক আবাসন কোম্পানিকে ৯ দফা দাবি পেশ।

অবৈধ দখল বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক আবাসন কোম্পানিকে ৯ দফা দাবি পেশ।

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেফতার

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেফতার

রূপগঞ্জে রাতভর মহাসড়ক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ছাত্রদল নেতার সঙ্গে ৫০ কর্মী

রূপগঞ্জে রাতভর মহাসড়ক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ছাত্রদল নেতার সঙ্গে ৫০ কর্মী

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নিভছে শিল্পের আলো, বেকার হাজারো শ্রমিক, বিপর্যস্ত স্থানীয় অর্থনীতি

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নিভছে শিল্পের আলো, বেকার হাজারো শ্রমিক, বিপর্যস্ত স্থানীয় অর্থনীতি

৬৩০ কোটি ডলার জাপানি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

৬৩০ কোটি ডলার জাপানি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

রূপগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রূপগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রূপগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও আখের খেত ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

রূপগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও আখের খেত ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা, পুরস্কৃত হলেন ১২ পুলিশ সদস্য

নারায়ণগঞ্জে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা, পুরস্কৃত হলেন ১২ পুলিশ সদস্য

রূপগঞ্জে রোগীদের টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারীকে কারাদণ্ড

রূপগঞ্জে রোগীদের টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারীকে কারাদণ্ড

চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাঙ্গীরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনেদুপুরে কুপিয়ে জখম, ২ লাখ টাকা ছিনতাই

জাঙ্গীরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনেদুপুরে কুপিয়ে জখম, ২ লাখ টাকা ছিনতাই

সাদা কাগজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


গণপূর্তে লটারি ঘিরে ক্ষোভের আগুন, ‘দুই সারোয়ারের’ কারসাজির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বদলি-বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং পদায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নের যে ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা ঘিরেই এখন দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার আড়ালেই প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে এ নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে সম্প্রতি ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীসহ মোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়। বদলি-বাণিজ্যের প্রচলিত অভিযোগ দূর করে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কিন্তু পদায়নের পরপরই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের স্থান পাওয়া, একই কর্মকর্তার পুনরায় সুবিধাজনক পদে ফিরে আসা এবং লটারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, লটারির ফলাফল ও পদায়নের পেছনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল। তাঁদের প্রশ্ন—যে লটারি বদলি-বাণিজ্য বন্ধের হাতিয়ার হওয়ার কথা, সেটিই কি শেষ পর্যন্ত অনিয়ম আড়াল করার মাধ্যম হয়ে উঠেছে?

‘দুই সারোয়ারের’ ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ, কারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন পদায়ন?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে একই নামের দুই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সারোয়ার মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অন্যজন গণপূর্ত অধিদপ্তরে থেকে অফিস গ্রেডিং ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই দুই কর্মকর্তার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কিছু পদায়নে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, অপেক্ষাকৃত দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরে পাঠানো হয়েছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত কয়েকজন কর্মকর্তা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ।

গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন, প্রশ্নের মুখে লটারির নিরপেক্ষতা

পদায়নের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে বিশেষভাবে আলোচনা চলছে। অভিযোগকারীরা এসব ঘটনাকে লটারির স্বচ্ছতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখছেন।

মাসুদ রানার মেডিকেল ডিভিশনে পদায়ন: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিভিশন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। লটারির মাধ্যমে তাঁকে মেডিকেল ডিভিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং এ পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ বিবেচনা ছিল কি না।

আহসান হাবিবের স্টাফ অফিসার পদে নিয়োগ: ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামি এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের দাবি, তাঁকে সরাসরি স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের প্রকৃতি এবং পদায়নের প্রশাসনিক ভিত্তি যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজিবের একই ডিভিশনে পুনরায় পদায়ন: নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবকে ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দুর্নীতির অভিযোগে রাজউক থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ফেরত আসার পর তিনি প্রথমে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ পেয়েছিলেন। পরে লটারির মাধ্যমে তাঁকে আবার ডিভিশন-১-এ পদায়ন করা হয়েছে—যেখানে রাজউকে যাওয়ার আগে তিনি দায়িত্ব পালন করতেন।

একই কর্মকর্তার পূর্বপরিচিত দায়িত্বস্থলে পুনরায় পদায়ন পাওয়ার ঘটনাকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। তবে রাজিবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, পূর্ববর্তী পদায়নের নথি এবং বর্তমান পদায়নের প্রক্রিয়া যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

আন্দালিব রহমানের সিটি ডিভিশনে পদায়ন: শেরেবাংলা-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আন্দালিব রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ সিটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের মতে, এসব পদায়নের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ থাকলেও একাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি একসঙ্গে পর্যালোচনা করা দরকার। বিশেষ করে লটারির ফলাফল, অফিস গ্রেডিং, পদায়নের সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি যাচাই করলে প্রক্রিয়াটির প্রকৃত স্বচ্ছতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তদন্তের দাবি: ব্যাংক হিসাব, গ্রেডিং নথি ও যোগাযোগের তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

লটারির মাধ্যমে পদায়নে বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদগুলোতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের স্থান পাওয়ার ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হোক। প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হিসাবও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। পাশাপাশি লটারির মাধ্যমে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীদের আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পদায়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগের তথ্য, প্রাসঙ্গিক কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), অফিস গ্রেডিংয়ের নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা আইনসম্মতভাবে পর্যালোচনা করা হোক। তবে ব্যাংক হিসাব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা পরিবারের সদস্যদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি অনুমোদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

তাঁদের মতে, কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম চিহ্নিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি, অধিদপ্তরের সারোয়ারের দাবি—‘নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেডিং করেছি’

লটারির পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সারোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে লিখিত খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সারোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পদায়নের সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেননি; মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কেবল অফিস গ্রেডিংয়ের কাজ করেছেন। এই মূল্যায়ন ও গ্রেডিংয়ের কাজে তাঁর সঙ্গে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পদায়ন প্রক্রিয়ায় এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল না। তবে গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, লটারির ফলাফল এবং চূড়ান্ত পদায়নের মধ্যে কোনো অসংগতি ছিল কি না, তা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পেতে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।

স্বচ্ছতার উদ্যোগই কি নতুন বিতর্কের মুখে?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন শুধু কয়েকজন কর্মকর্তার পদ পাওয়া বা না-পাওয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত স্বচ্ছতার উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

লটারির ফলাফল যদি নিরপেক্ষ ও নির্ধারিত নিয়মের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথি ও গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড প্রকাশ করে সন্দেহ দূর করার সুযোগ রয়েছে। আর যদি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার কিংবা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কর্মকর্তাদের একাংশের প্রত্যাশা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেবে। এতে শুধু বিতর্কিত পদায়নের বিষয়টি পরিষ্কার হবে না, ভবিষ্যতে বদলি-বাণিজ্য বন্ধে লটারিভিত্তিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এখন দেখার বিষয়, বদলি-বাণিজ্য বন্ধের লক্ষ্যে নেওয়া লটারির উদ্যোগ ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নেয় এবং পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও সিদ্ধান্তগুলো কতটা প্রকাশ্যে আসে।


সাদা কাগজ

প্রকাশক ও সম্পাদক :
এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ
নির্বাহী সম্পাদক :
মোঃ আল আমিন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :
মো: ইকবাল হোসেন
সাব এডিটর :
ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ হোসেন রাজ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
গণপূর্তে লটারি ঘিরে ক্ষোভের আগুন, ‘দুই সারোয়ারের’ কারসাজির অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x